বন্ধুরা ইতিহাসের পাতা থেকে আজ অব্দি,সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমস্যা চলেই আসছে,কখনও তাদের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে আবার কখন তারাই সমস্যার কারন হয়েছে,আর এমনই এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হলো রোহিঙ্গা সম্প্রদায়,চলুন আজকের ভিডিওটিতে জেনে নেই আসলে কারা এই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়,আর তাদের বর্তমান সমস্যাগুলি কি কি
এবার আসা যাক তাদের সমস্যায়, মায়ানমারের সরকার কোনোদিনই মায়ানমারের স্বীকৃত 135টি এথনিক গ্রূপের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মনে করেনি ফলে সেই 1982 থেকেই তারা ভূমিহীন ভাবে বসবাস করছে,প্রায় 100 বছর চলা ব্রিটিশদের রাজত্বের সময় বাংলাদেশ,ভারত,ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি অঞ্চল থেকে প্রধানত শ্রমিক হিসেবে কাজ করানোর উদেশ্যে প্রচুর লোক মায়ানমারে পাঠানো হতো যারা সরকারি স্বীকৃতি পেত না,মায়ানমারের স্বাধীনতার পর ইউনিয়ন সিটিজেনশীপ এক্ট 1948 এর ফলে তাদের অবস্থা আরো খারাপ হয়।এরপর 1982 সালে পাস হওয়া বার্মিস সিটিজেনশিপ ল তে বলা হয় যে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় যদি প্রমান দিতে পারে তাদের পূর্বপুরুষরা 1823 থেকে মায়ানমারের অধিবাসী সেক্ষেত্রে তারা সিটিজেনসিপের এপ্লাই করতে পারে নইলে তারা রেসিডেন্ট ফরেনার হিসেবেই গণ্য হবে,এর ফলে তারা ভোটাধিকার শিক্ষা এবং উচ্চপদস্থ সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়,সেই 1970 সাল থেকে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার হয়ে আসছে যার ফলে তারা বাংলাদেশ,থাইল্যান্ড,ভারত সহ অন্যান্য সাউথ ইস্ট এশিয়ার দেশগুলিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে,ইউনাইটেড নেশন্স হাই কমিশন ফর রিফুউজির সমীক্ষায় দেখা গেছে 2015 সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে প্রায় 25000 রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ পাচার চক্রের শিকার হয়েছে,2016 সালে আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির বর্ডার পোস্টে আক্রমণের ফলে 2016-2017 অর্থাৎ আজ অবধি মায়ানমার আর্মি,পুলিশ,রাখাইন অঞ্চলের ওপর ক্রমাগত অত্যাচার করছে যার মধ্যে বিনাবিচারে মেরে ফেলা,বসত বাড়িতে আগুন লাগানো, গ্যাং রেপ প্রভিতি সামিল রয়েছে যা অবশ্যই হিউম্যান রাইটসের উলঙ্ঘন করছে,যদিও বর্তমানে আমনেস্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল ও ইউনাইটেড নেশনস এর মত সংস্থা রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার নিয়ে সরব রয়েছে তবুও সেই 70এর দশক থেকে চলে আসা ক্রমাগত অত্যাচারের ফলে সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায় আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিটে মাটি ছেড়ে উদ্বাস্তু জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন